আজ শেষ হচ্ছে ৩ দিনের হাউজবোট মেলা
ঢাকাঃ দেশের জলভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৩ দিনব্যাপী বাংলাদেশ হাউজবোট মেলা শেষ হচ্ছে আজ ।মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের শৈলপ্রপাত হলে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এইচওএবি) আয়োজিত এ মেলাশেষ হচ্ছে আজ ১১ জুলাই।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, দেশের হাওর, নদী ও জলাভূমিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে জলভিত্তিক পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন জলাভূমি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।অনুষ্ঠানে হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসেন বলেন, জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করাও এবারের মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব হাউজবোট পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি আরও জানান, এবারের মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২০টিরও বেশি হাউজবোট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের হাউজবোট সেবা, পর্যটন প্যাকেজ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিনির্ভর ও টেকসই পর্যটনের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশও তার নদী, হাওর ও লেকভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত সেবা, নিরাপত্তা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।তারা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেকসহ দেশের বিভিন্ন জলাভূমিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে একদিকে যেমন দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই জলভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।